বহরে বিদ্যমান বোয়িং ৭৭৭ ও এয়ারবাস এ৩৮০ মডেলের ২২০টি উড়োজাহাজ রেট্রোফিট বা আধুনিকায়নে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার খরচ করবে এমিরেটস। নতুন মডেলের উড়োজাহাজ ডেলিভারিতে দেরির কারণে পুরনো বাহনকে দীর্ঘ সময় চালু রাখতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
গত বছর এয়ারলাইনস সংস্থাটি বলেছিল, তারা ২০৫টি উড়োজাহাজের জন্য রেট্রোফিট প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ করছে। এতে খরচ হবে ৪০০ কোটি ডলার।
বার্লিনে আইটিবি ট্রেড ফেয়ারে সম্প্রতি এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক বলেন, ‘নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়েছে আমাদের। ভবিষ্যতে কী ধরনের সমস্যা আসতে পারে তা দেখতে পেয়েছিলাম, তাই তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং খোদাকে ধন্যবাদ, আমরা এটি করেছি।’
তিনি আরো জানান, চলতি বছর বোয়িং ৭৭৭এক্স মডেলের ডেলিভারি এমিরেটস পাচ্ছে না। কারণ বড় আকারের জনপ্রিয় এ আকাশযানের সর্বশেষ মডেল এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করছে।
৭৭৭এক্স এমিরেটসের বড় আকারের বহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বৃহত্তম দূরপাল্লার এয়ারলাইনস সংস্থাটি বোয়িং ৭৭৭ ও এয়ারবাস এ৩৮০ মডেলের ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম ও ফ্লাইট শিডিউল তৈরি করেছে। তবে ৭৭৭এক্সের ব্যাপক দেরি এবং এয়ারবাস এ৩৮০ উৎপাদন বন্ধ থাকায় রেট্রোফিটের সিদ্ধান্ত যেতে হয়েছে সংস্থাটিকে।
বোয়িংয়ের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস নির্ধারিত ডেলিভারিতে পিছিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক এয়ারলাইনস শিল্পে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এয়ারলাইনস সংস্থাগুলোকে পুরনো আকাশযানের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করতে হচ্ছে, যা সাধারণত বড় ধরনের খরুচে সিদ্ধান্ত।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুবাই এয়ারশোর আয়োজক এমিরেটস। সংস্থাটি বৈশ্বিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে অতিরিক্ত ক্রয়াদেশের কথাও ভাবছে। টিম ক্লার্ক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশের দিকে নজর দিচ্ছি। আমরা আগামী দশকের মাঝামাঝি সময়ের দিকে তাকিয়ে আছি। কারণ উৎপাদকরা সত্যিই এ দশক শেষ হওয়ার আগে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে না।’